Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী

প্রশ্ন-১ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতার একটি বিবরণ দিন। [৩৫তম বিসিএস লিখিত]
বাংলাদেশে সংবিধানের ৫৫, ৫৬, ৫৭ ধারাগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্ণনা করে।

প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের কেন্দ্রবিন্দু এবং সরকারপ্রধান। তাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের শাসনকার্য পরিচালিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভা দেশের প্রকৃত শাসক। জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের আস্থাভাজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি
সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। যেমন- গত নির্বাচনে (২০০৮ সালের) আওয়ামী লীগ সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়। ফলে রাষ্ট্রপতি আওয়ামী লীগ প্রধান ও সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সমর্থনপুষ্ট শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এর আগে ২০০১ সালে একইভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের প্রধানমন্ত্রী করা হয়েছিল। কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি নিজের বিচার-বিবেচনা অনুযায়ী জাতীয় সংসদের যেকোনো সদস্যকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যকাল পাঁচ বছর। তবে, তার আগে কোনো কারণে সংসদ তার বিরুদ্ধে অনাস্থা আনলে এবং তা সংসদে গৃহীত হলে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়। প্রধানমন্ত্রী স্বেচ্ছায়ও পদত্যাগ করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ
করলে তার মন্ত্রিসভাও ভেঙে যায়। তাই প্রধানমন্ত্রীকে সরকারের স্তম্ভ বলা হয়। তিনি একসাথে সংসদের নেতা, মন্ত্রিসভার নেতা এবং সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কাজ

প্রধানমন্ত্রীকে বহুবিধ কাজ সম্পাদন করতে হয়। যেমন –
১. সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির নামে দেশের শাসন পরিচালিত হলেও আসলে প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভা দেশের প্রকৃত শাসনক্ষমতার অধিকারী। মন্ত্রিপরিষদের সহযোগিতায় তিনি শাসনসংক্রান্ত সকল দায়িত্ব পালন করেন। তার পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মন্ত্রী, রাষ্ট্রের উচ্চপদ¯থ কর্মকর্তা, বিদেশে রাষ্ট্রদূত ইত্যাদি নিয়োগ দেন।

২. প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের প্রধান। তাকে কেন্দ্র করে মান্ত্রিপরিষদ গঠিত হয় ও এর কাজ পরিচালিত হয়। তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা নির্ধারণ করেন ও মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন। মন্ত্রীদের কাজ তদারক করেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের মধ্যে সমন্বয় করেন। সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মন্ত্রীগণ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও অনুমোদন নিয়ে কাজ করেন। তিনি যেকোনো মন্ত্রীকে তার পদ থেকে অপসারণ করতে পারেন। মোটকথা তাকে কেন্দ্র করে মন্ত্রিসভা গঠিত, পরিচালিত ও বিলুপ্ত হয়।

৩. প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও পরামর্শে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের (জাতীয়) বাজেট প্রণয়ন ও সংসদে উপ¯থাপন করেন।

৪. প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের একজন সদস্য ও সংসদ নেতা। তিনি সংসদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে সংসদে আইন প্রণয়ন করা হয়। তিনি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত বা ভেঙে দিতে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেন। এভাবে তিনি আইন প্রণয়নসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকেন।

৫. পররাষ্ট্র বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদিত হতে পারে না। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন।

৬. দেশের জরুরি অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত ছাড়া যেকোনো নির্দেশ দিতে পারেন।

৭. প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্বার্থের রক্ষক। জাতীয় স্বার্থে তিনি বিভিন্ন সময়ে বক্তৃতা ও বিবৃতির মাধ্যমে জনগণকে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করেন ও জনগণের মধ্যে সংহতি রক্ষায় কাজ করেন।বাংলাদেশের সংসদীয় পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা থাকায় প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করেই দেশ, জাতি ও সরকার পরিচালিত হয়। তিনি রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার মধ্যমণি।


👉 Read More...👇

Add a Comment