Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

বাংলা লিপি

বাংলা লিপির উৎস কি? [৩৪তম বিসিএস লিখিত]

বাংলা লিপি হল একটি লিখন পদ্ধতি যেটা ব্যবহৃত করা হয় বাংলা, মণিপুরি, অসমীয়া ভাষায়। বাংলা লিপির গঠন তুলনামূলকভাবে কম আয়তাকার ও বেশি সর্পিল। বাংলা লিপির উদ্ভব হয় ভারতীয় লিপি লিপি থেকে। এর দুটি রূপ ‘ব্রাহ্মী’ ও ‘খরোষ্ঠী’ । এই রূপ দুটি প্রধান পার্থক্য এই যে ব্রাহ্মী লেখা হয় বাম হতে ডান দিকে। আর খরোষ্ঠী লিপি লিখিত হয় ডান থেকে বাম দিকে। খরোষ্ঠী লিপি আফগানিসতান ও পাকিস্তানে ব্যবহৃত হতো। মহাস্থান গড়েও ব্রাহ্মী লিপি পাওয়া যায়। ব্রাহ্মী লিপির তিনটি রূপ
সারদাঃ কাশ্মির ও পাঞ্জাবে প্রচলিত।
নাগরঃ রাজস্থান, গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশে প্রচলিত।
কুটিলঃ ভারতের পূর্বাঞ্চলে প্রচলিত।
কুটিল রূপ পরিবর্তিত হয়ে বাংলা লিপির সৃষ্টি হয়েছে। সেন আমলে বাংলা লিপি সুসংগঠিত হয়।

এই কুটিল লিপি থেকে বাংলা লিপির উদ্ভব হয়। খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে সম্রাট অশোক তার আইন কানুন ও শাসন পদ্ধতি পাথরে খোদাই করতেন ব্রাহ্মী লিপি দ্বারা। এরপর থেকে এটি বেশি পরিচিতি লাভ করেন। লিপিটি ১৮৩৭ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তা, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ভাষাবিদ জেমস প্রিন্সেপ আবিষ্কার করেন।

১৭৭৮ সালে ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেডের (হালেদ) আ গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রকাশনার মাধ্যমে বাংলা মুদ্রণশিল্পের জন্ম হয়। বইটি ইংরেজি ভাষাতে লেখা হলেও এতে বাংলা বর্ণপরিচয় ও বাংলা লেখার নিদর্শন সবই বাংলা মুদ্রাক্ষরে ছাপা হয়। এই মুদ্রণে প্রথমবারের মত “বিচল হরফ” প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এই কৌশলে প্রতিটি হরফের জন্য আলাদা একটি ব্লক থাকে, যে ব্লকটিকে ইচ্ছামত নড়ানো ও বসানো যায়। জার্মানির ইয়োহানেস গুটেনবের্গ ছিলেন এই প্রযুক্তির উদ্ভাবক। বাংলা মুদ্রণে হালেদের বইতে চার্লস উইলকিন্স এবং তার সহকারী পঞ্চানন কর্মকার এই প্রযুক্তি প্রথমবারের মত প্রয়োগ করেন। ধাতুর ব্লকে ঢালাই করা একই আকৃতি একই হরফের জন্য একাধিক পাতাতে ব্যবহার করা যায় বলে বাংলা ছাপা হরফে একটা স্থায়ী, বৈষম্যহীন রূপ এসেছিল। তবে এই প্রথম দিককার হরফগুলি খুব সুদৃশ্য ও পরিণত ছিল না। ইংরেজির তুলনায় বাংলা হরফের আকার ছিল বেশ বড়। ইউরোপে এর প্রায় তিনশত বছর আগেই বিচল হরফে ছাপার প্রযুক্তি শুরু হয়ে গেলেও বাংলাতে এটি ছিল একেবারেই নতুন একটি ঘটনা। চার্লস উইলকিন্স ও তার সহকারী পঞ্চানন কর্মকার সম্ভবত এই বিষয়ে অভিজ্ঞ কারিগর ছিলেন না।

১৮০০ সালে শ্রীরামপুরে ব্যাপটিস্ট মিশন প্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে উইলিয়াম কেরি ও উইলিয়াম ওয়ার্ড ছিলেন ছাপখান বিশেষজ্ঞ। তাঁরা সেখানে পঞ্চানন কর্মকারের চাকরির ব্যবস্থা করেন। এদের মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলা হরফের চেহারার উন্নতি হতে থাকে। ১৯শ শতকের তৃতীয় দশকেই বাংলা ছাপার চেহারা অনেকখানি পাল্টে যায়। ১৮৩১ সালে ভিনসেন্ট ফিগিন্স সম্ভবত প্রথম বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য বাংলা হরফ তৈরি করেছিলেন।


👉 Read More...👇

Add a Comment