Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

অ্যাডলফ হিটলার

বিগত সালের BCS Preliminary- তে এখান থেকে প্রশ্ন এসেছে টি।

অ্যাডলফ হিটলার ( Adolf Hitler ) (১৮৮৯ – ১৯৪৫) অস্ট্রীয় বংশোদ্ভূত জার্মান রাজনীতিবিদ যিনি ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স অর্থাৎ নাজি বা নাৎসি পার্টির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। হিটলার ১৯৩৩ সালে [৩৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি] জার্মানির চ্যান্সেলর এবং ১৯৩৪ সালে সে দেশের ফিউরার নিযুক্ত হন। এ পদ-দুটিতে তিনি ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত থাকেন। ফিউরার হল নাজি ডিক্টেটর হিটলারের সম্বোধন, যার অর্থ নেতা।

১৯১৩ সালে হিটলার জার্মানি চলে আসেন এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যোগ দেন। ১৯১৯ সালে জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টিতে যোগ দিয়ে ২১ সালে তার নেতা নির্বাচিত হন। ১৯২৩ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। এ কারণে তাকে জেল খাটতে হয়েছিল। এক বছরের মত জেলে থেকে তিনি ১৯২৪ সালে ছাড়া পান। জেলে থাকতেই তিনি Mein Kampf (“My Struggle বা আমার সংগ্রাম”). বইটি লিখে ফেলেন। এই বইয়ের একটি উক্তি হল- “যুদ্ধই জীবন, যুদ্ধই সার্বজনীন। [২০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি]

জেল থেকে ছাড়া পেয়ে মোহনীয় বক্তৃতার মাধ্যমে জার্মান জাতীয়তাবাদ, ইহুদি বিদ্বেষ ও সমাজতন্ত্রের বিরোধিতা করতে থাকেন। তিনি প্রায় সময়েই আন্তর্জাতিক পুঁজিবাদ ও সমাজবাদ কে ইহুদিদের ষড়যন্ত্র হিসাবে দেখাতেন। এভাবেই এক সময় জনপ্রিয় নেতায় পরিণত হন। ১৯৩৩ সালে তিনি ক্ষমতা লাভ করেন। এর পর থেকেই ভেইমার প্রজাতন্ত্রে ক্রমে কর্তৃত্ববাদী-একনায়ক-তান্ত্রিক জার্মান নাজি পার্টির শাসন শুরু হয়। হিটলার ইহুদি মুক্ত এক নতুন জার্মান প্রতিষ্ঠার চিন্তা করেন। তিনি অনেক জার্মান ক্ষুদ্র জাতিসত্তাদের উচ্ছেদ করে দেন। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের ক্ষতিপূরণের শর্ত হিসাবে ব্রিটিশ ও ফ্রান্স কর্তৃক আরোপিত আদেশ থেকে তিনি বেড়িয়ে আসতে চেয়েছিলেন। এছাড়া তার ক্ষমতার প্রথম ছয় বছর তিনি ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতির পুনরুদ্ধার করেন। এসব কাজ তাকে অনেক জনপ্রিয় করে তোলে।
১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বরে জার্মানরা পোল্যান্ড অধিকার করে এবং ফলশ্রুতিতে ব্রিটেন ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এভাবেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। ১৯৪১ সালে হিটলার রাশিয়া আক্রমণের হুকুম দেয়।

যুদ্ধের অক্ষ শক্তি তথা জার্মান নেতৃত্বাধীন শক্তি মহাদেশীয় ইউরোপ এবং আফ্রিকা ও এশিয়ার বেশ কিছু অঞ্চল দখল করে নিয়েছিল। কিন্তু অবশেষে মিত্র শক্তি বিজয় লাভ করে। ১৯৪৫ সালের মধ্যে জার্মানি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। হিটলারের রাজ্য জয় ও বর্ণবাদী আগ্রাসনের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রাণ হারাতে হয়। ৬০ লক্ষ ইহুদিকে পরিকল্পনা-মাফিক হত্যা করা হয়। ইহুদি নিধনের এই ঘটনা ইতিহাসে হলোকস্ট নামে পরিচিত।

১৯৪৫ সালে যুদ্ধের শেষ দিনগুলোতে হিটলার বার্লিনেই ছিলেন। রেড আর্মি যখন বার্লিন প্রায় দখল করে নিচ্ছিল সে রকম একটা সময়ে ইভা ব্রাউনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ২ দিন পার হওয়ার আগেই তিনি ফিউরার বাঙ্কারে সস্ত্রীক আত্মহত্যা করেন।

Add a Comment