Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

ডেঙ্গু জ্বর

ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত জ্বর। এডিস প্রজাতির Aedes aegypti মশকী এই ভাইরাস বহন করে। [৩৮, ৩০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি] আমাদের দেশে বর্ষাকাল থেকে অর্থাৎ জুন-জুলাই মাসে এই জ্বরের বিস্তার বেশি হয়। সারাবিশ্বে বছরে ৪০০ মিলিয়নের মত লোক আক্রান্ত হয়। এখনও কোন টিকা আবিষ্কার হয়নি। তাই প্রতিরোধই উত্তম ব্যবস্থা।

ডেঙ্গু জ্বরের কারণ: ডেঙ্গু জ্বর হচ্ছে চার ধরনের ভাইরাসজনিত ট্রপিক্যাল বা উষ্ণণ্ডলীয় রোগ। এটি সাধারণত ডেঙ্গু ভাইরাস আক্রান্ত এডিস মশকী দ্বারা ছড়ায়।

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ: একজন ডেঙ্গু জ্বরে ব্যক্তির সাধারণত উচ্চ জ্বর হয় অর্থাৎ তাপমাত্রা ১০৪-১০৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট বা তার থেকে বেশি হবে। সাথে নিম্নের লক্ষণগুলোর অন্তত দুটি প্রকাশ পাবে।

  • তীব্র মাথা ব্যথা
  • চোখের পিছনের দিকে তীব্র ব্যথা
  • জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা
  • মাংসপেশী অথবা হাড়ে ব্যথা
  • হামের মত র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা যায়
  • নাক, দাঁতের মাড়ি থেকে অল্প রক্তপাত হতে পারে
  • রক্তে শ্বেতকণিকার পরিমাণ করে যাবে।

লক্ষণগুলো রোগীর বয়স অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। ছোট বাচ্চা ও প্রথমবার আক্রান্তদের থেকে বয়স্ক, শিশু ও দ্বিতীয়বার আক্রান্তদের মাঝে রোগের তীব্রতা বেশি হয়।

জটিলতা: সাধারণত ৩-৭ দিনের মধ্যেই জ্বরের তাপমাত্রা কমতে থাকে। তবে যদি নিম্নোক্ত লক্ষণগুলো দেখা যায় দ্রুত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

  • তীব্র পেট ব্যথা ও ক্রমাগত বমি
  • ত্বকে লাল দাগ
  • নাক ও মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়লে
  • বমির সাথে রক্ত আসলে
  • কালো বা আলকাতরার মত পায়খানা হলে
  • ত্বক ফ্যাকাশে, ঠান্ডা ও স্যাঁতসেতে হলে
  • শ্বাসকষ্ট হলে।

প্রতিরোধ: এ রোগের কোন টিকা নেই। তাই প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে হয়। এজন্য

  • জমে থাকা খোলা পাত্রের পানিতে মশকী ডিম পাড়ে। পোষা প্রাণির খাবার পাত্র, পানির পাত্র, ফুল গাছের টব, নারকেলের মালা ইত্যাদিতে পানি জমে থাকতে পারে। সেগুলো পরিষ্কার রাখবেন।
  • দিন ও রাতে আলোতেও এরা কামড়ায়। তাই দিনের বেলাতেও মশারী ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তিকে যাতে মশা কামড়াতে না পারে তার ব্যবস্থা নিতে হবে।

চিকিৎসা: এই রোগের কোন সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তাই রোগ লক্ষণগুলোর উপর চিকিৎসা দেয়া হয়।

  • রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখুন।
  • প্রচুর পানি পান করতে দিন।
  • স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে কাপড় ভিজিয়ে শরীর বারবার মুছে দিন।
  • প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খাওয়ানো যাবে।
  • ডাক্তারের পরামর্শে ব্যথানাশক ঔষধ দিন।
  • রোগীকে অ্যাসপিরিন বা এজাতীয় ঔষধ দিবেন না।

ডেঙ্গু জ্বরে ভয়ের কিছু নেই। ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চললে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করা যায়। (সূত্র: চারপাশ ডট কম)।

Add a Comment