Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

প্রাকৃতিক আইন কাকে বলে?

প্রাকৃতিক আইন কী?
দর্শন শাস্ত্রে প্রাকৃতিক আইন বলতে এমন আইনকে বুঝায় যা সকল দেশের সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য। সমাজের রীতিনীতি বা প্রচলিত ধ্যান-ধারণা থেকে নয় বরং প্রাকৃতিকভাবেই এ সকল আইনের ধারণা মানুষের মনে তৈরি হয়। নীতিবোধ ও যৌক্তিক বিচারের মাধ্যমে তারা ভালো ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য করে। আর এভাবেই প্রাকৃতিক আইন তৈরি হয়। যেহেতু এই আইনগুলো মানুষের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয় তাই এগুলো সর্বজনীন। স্থান কাল পাত্র আলাদা হলেও তা সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য।

প্রাকৃতিক আইনের উদাহরণ– যেমন, মানুষ আত্মরক্ষা করবে, হিংস্র বা বিষাক্ত প্রাণি দেখলে সে সতর্ক হবে এটাই মানুষের সহজাত প্রকৃতি, মানুষ বংশ বিস্তার করবে সৃষ্টির ধারা অব্যাহত রাখবে এটাও মানুষের একটা স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। প্রাপ্ত বয়স্ক কোন ছেলে মেয়েকে তো আর বলে দিতে হয় না তারা এটা কিভাবে করবে!! 😉 😛

প্রাকৃতিক আইনে কাজের ধরন
মানুষ তার প্রকৃতি অনুসারে সকল কাজকে দুটাভাগে ভাগ করে, ভালো আর মন্দ। যা ভালো তা মানুষ গ্রহণ করে, যা খারাপ তা মানুষ বর্জন করে। এখন আপনি বলতে পারেন- আমার কাছে ‘ক’ ভালো, ‘খ ‘ খারাপ, অপর একজন বলতে পারে যে তার কাছে ‘খ’ ই ভালো, বরং ‘ক খারাপ। এটি একটি পরস্পর বিরোধী কথা, একই সঙ্গে একটা জিনিস ভালো ও খারাপ হতে পারে না। যে মানুষ একটি খারাপ কাজকে ভালো মনে করে করতেছে, প্রাকৃতিক আইনে তাকে বলা হয় অজ্ঞ বা নির্বোধ(Ignorant).

প্রাকৃতিক আইনবিদ্গণ
অনেকে এরিস্টোটল কে প্রাকৃতিক আইনের জনক বলে থাকেন, কিন্তু এ তথ্য তর্ক সাপেক্ষ, বরং প্রাথমিক ভাবে মনে করা হয় যে থমাস অ্যাকুইনাসের (Thomas Aquinas)ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ থেক প্রাকৃতিক আইনের উদ্ভব। আরেক দারশনিক থমাস হব্‌স ( Thomas Hobbes) প্রাকৃতিক আইনকে সজ্ঞায়িত করেছেন একটি জীবন পদ্ধতি হিসাবে, যে জীবন পদ্ধতি অবলম্বনে মানুষ বেঁচে থাকার প্রেরণা লাভ করবে এবং জীবনে উন্নতি করবে। থমাস অ্যাকুইনাস, থমাস হব্‌স ছাড়াও প্রাকৃতিক আইন তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন ফ্রান্সিসকো সুয়ারেজ (Francisco Suárez), হুগো গ্রটিয়াস ( Hugo Grotius) স্যামুয়েল ভন পুফেনডর্ফ( Samuel von Pufendorf), ও জন লক ( John Locke) [৩৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি]

স্টোইক্‌সরা( The Stoics- দার্শনিক জেনোর মতালম্বী, যারা আত্ম নিয়ন্ত্রিত হয়ে যে কোন সুখ-দুঃখ মেনে নিতে পারে, অনেকটা সর্বংসহার মত 🙂 ) মনে করেন এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড একটি যৌক্তিক (rational) এবং উদ্দেশ্যপূর্ণ (purposeful) নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয়, এই নিয়মকে বলা হচ্ছে ঐশী বিধান ( divine or eternal law), বা প্রাকৃতিক আইন। আর মনুষ্য জাতিও এইসকল বিধান বা আইন মেনে নিয়ে নিজের সদ্‌গুণাবলীর বিকাশ ঘটায়।

অতীতে প্রাকৃতিক আইনের এই ধারণাটি অনেক খ্রিষ্টান ফাদাদের ভালো লাগে, ফলে তারা এই ধারণাটিকে খ্রিষ্ট ধর্মের অন্তর্ভুক্ত করেন। প্রাকৃতিক আইন তত্ত্ব আধুনিক যুক্তরাজ্যের অনেক আইনকে প্রভাবিত করেছে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণায়ও প্রাকৃতিক আইনকে যুক্ত করা হয়েছে।

Add a Comment