Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী

চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো একই ধরনের আর্থিক, সাংস্কৃতিক, বৈষয়িক সুবিধা ও মর্যাদা লাভের জন্য স্বার্থের ভিত্তিতে সংঘবদ্ধ বিশেষ জনগোষ্ঠী। এদের কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকে না। তাই এদিক হতে রাজনৈতিক দলের সাথে এদের পার্থক্য বিদ্যমান।

“চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো সে গোষ্ঠী যারা নিজেদের পছন্দমতো পথে সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করতে চায়, যদিও রাজনৈতিক দলের মতো প্রত্যক্ষভাবে ক্ষমতায় আস্তে চায় না।” এস.ই.ফাইনার

“চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীসমূহ সর্বাধিক লক্ষণীয় এবং সুসংহত স্বার্থের প্রতিভু স্বরুপ।” জে.ডি মিলার

“নির্দিষ্ট স্বার্থের বন্ধনে সংযুক্ত এবং এ সংযোগ সম্পর্কে সজাগ ব্যক্তি সমষ্টিকে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলে।”আলমন্ড ও পাওয়েল

“চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলতে এমন এক গোষ্ঠীকে বোঝায় যারা স্বেচ্ছামূলক ভাবে সংগঠিত, যা সরকারি কাঠামোর বাইরে অবস্থান করে সরকারি নীতি গ্রহণ, পরিচালনা বা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারে সচেষ্ট থাকে।” অধ্যাপক মাইরন ওয়েনার

সুতরাং উপর্যুক্ত সংজ্ঞার আলোকে বলা যায়-চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী এমন একটি গোষ্ঠী যারা রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল না করে তাদের পক্ষে সরকারি নীতি প্রণয়নে প্রভাব বিস্তার করে। যেমন- বাংলাদেশের বিজিএমইএ, এফবিসিসিআই, শিক্ষক সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন ইত্যাদি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়ঃ
১। বেসরকারী সংগঠন
২। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা স্বার্থ
৩। নির্দলীয় বা অরাজনৈতিক সংগঠন
৪। সরকারকে নিয়ন্ত্রণ
৫। সংগঠিত সামাজিক গোষ্ঠী

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীসমুহ তাদের পছন্দের দল বা ব্যক্তিকে অর্থ দিয়ে যানবাহন দিয়ে প্রচার কাজে সাহায্য করে। তাদের পছন্দনীয় দল বা ব্যক্তি নির্বাচিত হয়ে আইনপ্রণয়ন ও শাসন কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করে থাকে।

নাগরিক সমাজের অন্তর্ভূক্ত কতগুলো বিষয় হলোঃ ব্যক্তি ক্ষেত্র, স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন (NGO),সমাজ কল্যাণমুখী সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন, সমাজ, সম্প্রদায়ভিত্তিক সংগঠন, বিশেষ স্বার্থদল, বিবিধ সাংস্কৃতিক সংগঠন, মিডিয়া বা গণমাধ্যম।

চাপসৃস্টিকারী গোষ্ঠী গঠিত হয় সুনিদিষ্ট লক্ষ্য অর্জন, স্বার্থ আদায় স্বার্থ রক্ষার জন্য বহুমুখী, ব্যাপক সামাজিক বা জাতীয় স্বার্থ এর ভিত্তিতে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী গঠিত হয় না। এমনকি জাতীয় কল্যাণের জন্য কোনো মহান উদ্দেশ্য ও চাপসৃস্টিকারী গোষ্ঠীর থাকে না।

স্বার্থকামী গোষ্ঠী নিজেকে নির্দল বা অরাজনোইতিক সংগঠন হিসেবে মনে করে।

চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী অরাজনৈতিক চরিত্র নিয়েই বেঁচে থাকতে চায়।

স্বার্থকামী গোষ্ঠী সংগঠিত সামাজিক গোষ্ঠী।

তাঁরা সুসংগঠিত।

তাঁদের লক্ষ সুনির্দিষ্ট।

রাজনৈতিক দল ও চাপসৃস্টিকারী গোষ্ঠী মধ্যে পার্থক্য।
রাজনৈতিক দলের সামনে বৃহৎ জাতীয় কল্যাণের লক্ষ্য থাকে, যা চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মধ্যেথাকে না।
সংগঠনের দিক থেক চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী রাজনৈতিক দল অপেক্ষা দুর্বল।
রাজনৈতিক দলের কাজ কর্ম প্রকাশ্য ও প্রত্যক্ষ।

সুশীল সমাজ (সিভিল সোসাইটি) ও চাপ সৃষ্টি কারী গোষ্ঠী সমূহের ভূমিকা:-
চাপ সৃষ্টি কারী গোষ্ঠী দেশের রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। উদারনৈতিক গণতন্ত্রীয় সরকার ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি কারী গোষ্ঠী গুলো ভূমিকা অতি ব্যাপক ও তাৎপর্য পূর্ণ হয়ে থাকে।

উদ্দেশ্য অনুসারে চাপ সৃষ্টি কারী গোষ্ঠীকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

  • সংরক্ষণমূলক চাপ সৃষ্টি কারী গোষ্ঠী- শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট।
  • উন্নয়ন মূলক চাপ সৃষ্টি কারী গোষ্ঠী: কোন বিশিষ্ট লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করার জন্যে কাজ করে।উন্নয়ন মূলক চাপ সৃষ্টি কারী গোষ্ঠী সূমহ:উন্নয়ন মূলক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ওয়াচ ডগ হিসাবে ভূমিয়াক পালন করে।

আরও কিছু তথ্য
চাপ সৃষ্টি কারী গোষ্ঠী সূমহকে: অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চার শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন। ভূমিকার ভিত্তিতে চাপ সৃষ্টি কারী গোষ্ঠী গুলোর শ্রেণি বিভাগ করলে সহজে প্রকৃতি ও ধরন সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। ব্রিটেনে:পশুপাখির স্বার্থ রক্ষা, ব্যবিসায়ীদের স্বার্থ, পরিবারিক স্বার্থ রক্ষা ছাড়াও প্রভৃতি বিষয় নিয়ে কাজ করার জন্যে বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি কারী গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। চাপ সৃষ্টি কারী গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য গোষ্ঠী স্বার্থ উদ্ধার। সরকারি কাঠামোর বাইরে থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে বা করতে চায় চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী।

রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো: রাজনৈতিক মনোভাব ও দৃষ্টভঙ্গির সুনির্দিষ্ট প্রতিকৃতি।

Add a Comment